কাজলাদিঘি
আমার
গাঁয়ের মাঝে কাজলাদিঘি
পাড়েতে
তার তেঁতুলগাছের সারি।
কাজলাদিঘির
কালো জলে
রোজ তেল
মেখে চান করি।
কাজলাদিঘির
কালো জলে
নাইতে
যখন নামি।
কালো
জলে শীতল পরশে
শিউরে
উঠি আমি।
কাজলাদিঘির
দখিন পাড়ে
আম কাঁঠালের
বন।
সেথায়
ডাকে দোয়েল কোকিল
ভরে ওঠে
মন।
কাজলা
দিঘির কালো জলে
কত শালুক
পদ্ম ফোটে।
কাজলাদিঘির
গাছের ছায়ায়
আমার
হৃদয় ভরে ওঠে।
দূরের
পথে লাঙল নিয়ে
চলেছে
কৃষক মাঠে।
গাঁয়ের
বধু জল নিতে আসে
ঐ কাজলাদিঘির
ঘাটে।
কাজল
কালো বধু আমার
আসবে
যেদিন গাঁয়ে।
কাজলাদিঘির
কালো মেয়ে
তারে
দেখবে শুধুই চেয়ে।
গাঁয়ের ছায়া মাটির মায়া
আম কাঁঠালের
ছায়ার ঘেরা ছোট্ট আমার গ্রাম
গাঁয়ের নামটি
পাথরচুড় তার ভারি সুন্দর নাম।
দূরে গাঁয়ের
পাহাড় চূড়ো মোরে ডাকে ইশারায়
রাঙা মেঘ সাঁতার দিয়ে তারে
ঢেকে দিয়ে যায়।
গাঁয়ের শেষে
যায় যে দেখা অজয় নদীর বাঁক
নদীর ধারে কাশের বনে নাচে
শালিক পাখির ঝাঁক।
দূরে আর্তনাদের পাহাড়, ক্রন্দন নদীর ঘাট
নীরব নিঝুম স্তব্ধ দুপুরে শুধু ধু ধু করে মাঠ।
বাঁশ বাগানের ভিতর দিয়ে সরু এক গলি পথে
কলসী কাঁখে গাঁয়ের বধুরা আসে পুকুরে জল নিতে।
লাল ধূলো উড়িয়ে পথে চলছে গরুর গাড়ি,
এই গাঁয়েতেই জন্ম আমার এই গাঁয়েতেই বাড়ি।
তেঁতুল বটের ছায়ায় ঘেরা ছোট্ট আমার গ্রাম
গাঁয়ের নামটি পাথরচুড় তার ভারি সুন্দর নাম।
দিনের শেষে সূর্য ডোবে সাঁঝের আঁধার নামে,
মৌনমুখর স্তব্ধতা নামে নির্জন এই গ্রামে।
ধূপ দীপ জলে প্রতি ঘরে ঘরে মন্দিরে বাজে ঘণ্টা,
ঢাকের শব্দে জেগে ওঠে পাড়া আকুল করে মনটা।
বিনিদ্রা রাতের তারারা আকাশে মিটি মিটি করে হাসে,
রাতের আঁধার কেটে গিয়ে শেষে নতুন সকাল আসে।
গাঁয়ের ছায়া মাটির মায়া গাঁয়ে এমনই মমতা মাখা
সারা হৃদয় জুড়ে আজও আছে সেই গাঁয়ের ছবি আঁকা।
তাল খেজুরের ছায়ায় ঘেরা ছোট্ট আমার গ্রাম
গাঁয়ের নামটি পাথরচুড় তার ভারি সুন্দর নাম।
অবক্ষয়ের পথে
মা বোনেদের
কেড়ে নেয়
বসন কলির
দুঃশাসন।
আজও কাঁদে
মায়েরা আমার
তাদের মলিন
বদন।
রাম রাজত্ব
হয়ে গেছে ধ্বংস,
মরেনিকো
আজও রাবণ।
দেশের
প্রতিটি কোণায় কোণায়
আজও হচ্ছে
সীতা হরণ।
মরেনি আজও কংস রাজা
ভ্রূণহত্যা হচ্ছে দেশে আজও।
সুফলা মাটি বন্ধ্যা হয়েছে
দেশে অন্ন নাইকো কারও।
আজও কলির কানু বাজায়
পার্কে ও সিনেমায় বসে বাঁশি,
লজ্জার হাত থেকে মুক্তি নিতে
মেয়েরা দিচ্ছে গলায় ফাঁসি।
জোড়াদিঘির ঘাট
জোড়াদিঘির ধারে ধারে
নিম আর তেঁতুল গাঁছ
দিঘির মাঝে জলে লাফায়
রুই আর কাতলা মাছ।
জোড়াদিঘি পাড়েতে তার
রাজহাঁসের এক সারি
পায়ে পায়ে এগিয়ে চলে
মৌন মিছিল করি।
দিঘির জলে খেলা করে
বুনো হাঁসের দল,
দিঘির পাড়ে পাখিরা
সব করে কোলাহল।
ঘুঘু পাখি ডাকছে দূরে,
চাঁপাতলার মাঠে।
পাড়ার ছেলেরা সাঁতার কাটে,
জোড়াদিঘির ঘাটে।
গাঁয়ের পথে রাখাল চলে
বাজায় রাখালিয়া সুর
দিঘির জলে করে খেলা
মায়াবী সোনালি রোদ্দুর।
তেঁতুলগাছে বাঁদর বসে
ল্যাজটি ঝুলে থাকে,
দূরে পলাশ গাছের বনে
দোয়েল কোকিল ডাকে।
জোড়াদিঘির পশ্চিমপাড়ে
চাষীরা লাঙল চষে।
ভুলো কুকুর শুধু ঘুমোয়
দিঘির পাড়ে বসে।
দিঘির ধারে সাদা বক
ঠোঁট দিয়ে মাছ ধরে,
কুহু স্বরে কোকিল ডাকে
পরাণ পাগল করে।
টিয়াপাখি বাসায় থাকে
জোড়া শালিক বসে গাছে।
ময়না ও চড়ুই আনন্দেতে
জোড়াদিঘির পাড়ে নাচে।
কাক ডাকে কর্কশ কণ্ঠে
শঙ্খচিল ওড়ে আকাশে,
কলসী কাঁখে গায়ের মেয়েরা
দিঘিতে রোজ নাইতে আসে।
দিঘির ধারে এক প্রান্তে
শিয়ালকাঁটার ঝোঁপ,
মাছশিকারী ছিপ ফেলে
বঁড়শিতে দেয় টোপ।
সন্ধ্যা হলেই আঁধার নামে
নীরব নিঝুম চাঁপাতলার মাঠ।
ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠে দীপ
আঁধার হল জোড়াদিঘির ঘাট।
কাব্যের কড়া হাতুড়ি
আর্তনাদের নদী বয়ে চলে শীতের শিশির ভেজা রাতে।
মৌনমুখর রাত্রি কাঁদে নীরব নির্জন শ্মশানঘাটে।
হাহাকারের পাহাড় জমেছে হাটে মাঠে পথে ঘাটে,
বুভুক্ষা মানুষের মৌন মিছিল প্রকাশ্য রাজপথে।
এই
কামনার সাগরে ভাসে ভালবাসার
মৃতদেহ,
নীরব
নিঝুম স্তব্ধ দুপুরে ক্রন্দন
করে কেহ,
ঘোমটা
জড়ানো কৃষকবধূর প্রেম, প্রীতি
আর স্নেহ,
হোগলা পাতার জীর্ণ কুটীরে
বালকের খেলাগেহ।
মৃত্যুকবলিত
গাঁয়ে থেমে গেছে মৃত্যুর
কোলাহল,
অর্থপিপাসু ধনীদের
দল হাসিতেছে খলখল,
অত্যাচারের চাবুক
চালায় অত্যাচারীর দল,
চাবুকের ঘায়ে রক্ত ঝরে, চোখ
ফেটে আসে জল।
মানুষ হয়েছে অমানুষ আজ, মারে মানুষের বুকে ছুরি,
ব্যথা বেদনার সূতোয় গাঁথা হাসি কান্নার লুকোচুরি,
কামনায় রাঙা গোলাপ গাছে ফোটে না ভালবাসার কুঁড়ি,
বিদ্রোহ আজ
কবিতার পাতায়, কাব্যের কড়া হাতুড়ি।
No comments:
Post a Comment