Saturday, 12 December 2015


শ্মশানে ফুলের চারা

নদীর তীরে নৌকা বাঁধা,
নাইকো মাঝি ঘাটে
জোছনা কাঁদে বালুচরে
চাঁদ ও তারার সাথে

নদীর জলে জোছনা ঝরে,
ঝিকিমিকি করে তারা,
তারা ফোটে আকাশের গায়,
রাত জেগে দিশাহারা

নদীর কূলে কেহ নাই,
শ্মশানে জ্বলছে চিতা
ফুল-বাগিচায় ঘুমিয়ে গেছে,
মাধবী অপরাজিতা

জোছনারাতের ঝলসা আগুনে,
শ্মশানে পুড়িছে দেহ
ঘাট নির্জন, নিশুতি রাতে
নদীতটে নাই কেহ

নিশুতি রাতে ঘুমায় শহর
সারা পৃথিবী জুড়ে,
শ্মশানঘাটে ফুলের চারা,

বের হয় মাটি ফুঁড়ে






সাঁঝের সানাই


দিনের আলো শেষ হয়ে যায়, সুয্যি ডোবার পরে,
সাঁঝের বেলায় জ্বলে ওঠে দীপ, বাংলার ঘরে ঘরে
সন্ধ্যে বেলায়, তুলসী তলায়, প্রদীপ জ্বালায় বধূ,
কান পেতে শুনি, দূর হতে দূরে, শংখের ধ্বনি শুধু

ঢাকের শব্দে মেতে ওঠে পাড়া, কাঁসর ঘণ্টা বাজে,
সন্ধ্যা আরতি হয়ে যায় শুরু, দেবীর মন্দির মাঝে
সাঁঝের তারা উঠল ফুটে, চাঁদ ওঠে নীল আকাশে,
নদীর জলে চাঁদের কিরণে, জোছনার রাশি ভাসে

চাঁদ তারা হাসে আকাশের গায়, শিশুরা মাতৃ-ক্রোড়ে,
রাত্রি গভীর ঘুমায় শহর, গ্রাম সড়কের মোড়ে
সাঁঝের সানাই বেজে ওঠে দূরে, পাখিরা বাসায় ফেরে
নির্জন গাঁয়ে  আঁধার নামে,গ্রাম ঘুমোয় আঁধারে

রাত্রি নিঝুম, অলস শরীর, ঘুম নেই মোর চোখে,

জোছনা রাত, কেটে শেষে, ভোরের পাখিরা ডাকে



Sunday, 22 November 2015



সোনা মাটির ধান (লোক কবিতা)

ও মাটির ধান রে সোনা মাটির ধান।
ও সোনার ধান রে মাটির সোনা ধান।

চাষী গেছে মাঠে রে সে গায় মাটির গান।
ও মাটির ধান রে ও সোনার ধান।

অঘ্রানেতে ধানের খেতে
সোনার ধান উঠে মেতে
আনন্দেতে সবাই মাতে, উথাল পাথাল পরান।

ও মাটির ধান রে সোনা মাটির ধান।
ও সোনার ধান রে মাটির সোনা ধান।
চাষী গেছে মাঠে রে ও গায় মাটির গান।

সোনা ধান মাঠে মাঠে
চাষীরা সব ধান কাটে,
বেলা গেলে ঘরে ফেরে, দিন হলে অবসান।

ও মাটির ধান রে সোনা মাটির ধান।
ও সোনার ধান রে মাটির সোনা ধান।
চাষী গেছে মাঠে রে সে গায় মাটির গান।

উঠোন মাঝে ধানের গোলা,
ধান রেখেছে চাষী ভোলা।
ধানের বোঝা মাথায় নিয়ে, আসে সব কিষান।

ও মাটির ধান রে সোনা মাটির ধান।
ও সোনার ধান রে মাটির সোনা ধান।
চাষী গেছে মাঠে রে সে গায় মাটির গান।



Friday, 13 November 2015

দুটুকরো কবিতা


খবরের কাগজের
প্রথম পাতায়
লাল কালিতে লেখা
কবিতার মৃত্যু
দুঃসংবাদ!
দ্রুতগতিতে পৌঁছায়
এলো ওরা হাতে
রক্তাক্ত শানিত
রবারি লয়ে,
বর্বরোচিত ভাবে
হত্যা করলো একটা
নিষ্পাপ মেয়েটাকে
একটি ফুলের মৃত্যু
ভালবাসার মৃত্যু
...
কবিতা আজ আর নেই
সে মরে গেছে,
সে হারিয়ে গেছে,
সে ফুরিয়ে গেছে
কিন্তু মরে নি সে,
ভালবাসার মৃত্যু নেই
সে আজও বেঁচে আছে
আজ কবিতার পাতায়
দুটুকরো কবিতা হয়ে


সময় কথা বলে,
কান্না, ঘাম আর
রক্তের ফসলে
জমে ওঠে
মৃত কংকাল
ওরা অভিশাপ দেয়
শ্মশানে ফুলের গাছটা
শুকিয়ে গেছে
তবে কি কবিতা মরে গেছে?

দুটুকরো কবিতার
শেষ কথা
ভালবাসার অপমৃত্যু!
কবিতার মৃত্যু

একটি ফুলের মৃত্যু





Saturday, 7 November 2015




শক্তির আবাহন আরাধনা

চিন্ময়ী রূপে
এসো মাগো তুমি
জগজ্জননী মা

শ্যামারূপী কালী
ভীমা ভয়ংকরী
খড়্গধারিণী মা

নয়নে বহ্নি জ্বলে,
মুণ্ডমালা গলে,
ত্রিশূল ধারিণী মা

কপালে দিব্য আভা,
গলাতে রক্ত জবা,
নৃমুণ্ডমালিণী মা

এসো মাগো ভবে,
ডাকি মোরা সবে,
দেহ তব রাঙা চরণ

শংখ ঘণ্টা বাজে,
এসো এই ধরামাঝে,
তোমারে করি আবাহন



                               দীপ জ্বলে ঘরে ঘরে



দীপাবলী আসে তাই,
চাষীর ঘরে অন্ন নাই,
সোনা ধানে খেত আছে ভরে

অমানিশার গহন রাতে,
কালীপূজা শ্মশান ঘাটে,

দীপ মালা জ্বলে সবার ঘরে
দেবী বিসর্জন-1

বিসর্জনের বাজনা বাজে,
দুলিয়ে কোমর সবাই নাচে,
বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জন

মায়ের চোখে জল ঝরে,
সবার হৃদয় দুঃখে ভরে,
দেবীর দোলায় কৈলাসে গমন


লক্ষ্মীপূজা-2

কোজাগরী পূর্ণিমা তিথিতে,
পূজি লক্ষ্মী দেবী বিধিমতে,
লক্ষ্মী পূজা হয় সমাপন

দিন যায়, রাত আসে,
দিনের স্মৃতি যায় মুছে,
সবার শেষে দেবীর বিসর্জন

শ্যামাপূজা-3


দীপাবলী আসে তাই,
চাষীর ঘরে অন্ন নাই,
সোনা ধানে খেত আছে ভরে

অমানিশার গহন রাতে,
কালীপূজা শ্মশান ঘাটে,

দীপ মালা জ্বলে সবার ঘরে