Tuesday, 28 June 2016

আষাঢ় মাসের দিবসে

আষাঢ় মাসের দিবসে
চাষীরা মাঠে জমি চষে,
খেত মাঠ জলে করে থৈ থৈ।

মেঘ জমেছে কালো করে
বৃষ্টি পড়ে জোরে জোরে,
বজ্র নিনাদে মেঘ ডাকে ঐ।

মুষলধারায় বৃষ্টি নামে,
ঢেউ উঠে প্রবল বানে,
আষাঢ়ে ভরা নদী করে হুংকার।

কূল ভাঙা ঢেউ আজি
বানে ভাসে বৃক্ষরাজি,
বন্ধ হয়েছে বুঝি খেয়া পারাপার।

নদীকূল শূণ্য আজি,
নাইকো ঘাটে মাঝি,
নদীতে কানায় কানায় আসে বান।

বাড়ির পাশে বেড়ার ধারে,
ব্যাঙ ডাকে পুকুর পাড়ে,
চাষীবৌ সারাদিন মাঠে পুঁতে ধান।

পথের বাঁকে পুলের কাছে,
চারপাশে তার জল জমেছে,
রাস্তায় পথে ঘাটে নামে কাদা জল।

মেঘ ডাক ছাড়ে গুরু গুরু,
ভয়ে বুক করে দুরু দুরু,
মুষলধারে বৃষ্টি পড়ে দেখি অবিরল।

ফুল ফোটে বনে বনে

ফোটে ফুলকলি বহিছে সমীর
প্রভাত সময় কালে,
করিছে কূজন প্রভাত পাখিরা
বসিয়া গাছের ডালে।

দিঘিতে ফোটে কুমুদ কমল
মরাল জলে ভাসে,
বাগানে ফোটে টগর বকুল
গগনে অরুণ হাসে।

গাঁয়ের রাখাল নিয়ে গরুপাল
তরুছায়ে করে খেলা,
গাঁয়ের চাষীরা লাঙল চালায়
আসে ফিরে সন্ধ্যাবেলা।

পান্থ পথিক আদুল গায়ে
ছাতা নিয়ে পথে চলে,
নির্জন দুপুর অলস বিবশ
শঙ্খচিলের কোলাহলে।

শান বাঁধানো পুকুরঘাটে
ধোপারা কাপড় কাচে,
বীর হনুমান ল্যাজ ঝুলিয়ে
বসে থাকে বটগাছে।

বিকেল হলেই বেলা পড়ে
সূর্য্যি ডোবে আঁধার নামে,
ক্লান্ত পাখিরা বাসায় ফেরে
প্রদীপ জ্বলে সারা গ্রামে।

না ফোটা ফুলের কলিরা
সবাই ঘুমায় ক্লান্ত হয়ে,
রাতের রজনীগন্ধারা জাগে
শত দুঃসহ ব্যথা সয়ে।

রাত কেটে শেষে সূর্য ওঠে
পূব আকাশের কোনে,
বহে সমীরণ, পাখীর কূজন
ফুল ফোটে বনে বনে।