Monday, 15 December 2014

       মা মাটি জন্মভূমি

গাঁ আমার, মাটি আমার, আমার জন্মভূমি
মেঠো গাঁয়ের মেঠো পথে, মাটির গান শুনি
        মাটিতে সোনার ফসল ফলে,
          মাটিকে ডাকি মা মা বলে,
মাটির বুকে শুয়ে থাকি, কল্পনার জাল বুনি
মাটি মায়ের গান আমি কান পেতে শুনি

সবুজ গাছের ছায়া আমার গাঁকে ঢেকে রাখে
সেই গাছেরই শাখে শাখে, নিত্য কোকিল ডাকে
         গাঁয়ের মাটি, গাঁয়ের ভাষা,
             মাটি মায়ের ভালবাসা,
গাঁয়ের পথে চলতে গিয়ে, মনে পড়ে মোর মাকে
বারে বারে আসতে মন চায় মাটি মায়ের ডাকে

গাঁ আমার মাটি আমার, মাটি আমার মা
গাঁয়ের ছায়া মাটির মায়া, ভুলতে পারি না
            সবুজ বনানী ছায়ায়,
             গাছের পাতায় পাতায়,
গাঁয়ের মাটিতে শিখেছি আমি মাটির বন্দনা
সেই জন্মভূমি মাটি আমার আসল ঠিকানা
























Sunday, 30 November 2014

ঊর্মিলা

রাম সীতা গেল বনবাসে,
কৌশল্যা ভূমিতে পড়ে আঁখিজলে ভাসে।
লক্ষ্মণ ভাই গেল তাদের সাথে,
ঊর্মিলা শুধু কাঁদে - আর কাঁদে।
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।

ঊর্মিলা- আজ চৌদ্দটা বছর,
তোমার সাথে হয়নি কথা বলা।
তোমায় রেখে এসেছি একেলা।
জানি, তোমার বড় কষ্ট হয়,
জানি, তোমার জীবন বড় দুর্বিসহ।
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।

ঊর্মিলা- তোমার হৃদয় সাগরে,
আমি দেখেছি হাজার হাজার ঊর্মিমালা।
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।

তোমার কালো চোখে দেখেছি
আমি অমানিশার নিকষ কালো আঁধার।
পূর্ণিমার রাতে, আকাশে চাঁদ ওঠে।
ঘুম আসে না দু’চোখে তোমার।
ঊর্মিলা- তোমার বুকভরা ভালবাসা
আমার জীবনে এক দুঃসহ জ্বালা,
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।
ঊর্মিলা- তোমার জলভরা দুটি চোখ
আমাকে আজও কাঁদায়-শুধু কাঁদায়।
তুমি নীরবে সয়েছো কত অবিচার, অন্যায়।
তোমার হৃদয়কমল আজও চির উজ্জ্বল
কঠোর ত্যাগের অমর মহিমায়।
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।

সুখ দুঃখভরা পৃথিবীতে ঊর্মিলারা
আজও হেসে খেলে বেড়ায়।
ত্যাগের মহিমায় ওরা আজও
বেঁচে আছে কবিতার পাতায়।
জীবন মহাকাব্যের শাখা-প্রশাখায়।


কবিতার ভালবাসা

হৃদয়বীণার তারে
যে সুরের ঝংকারে,
              জাগে মনে নিত্য নব আশা।

নীরব মনের গহনে,
স্তব্ধ প্রানের স্পন্দনে
             কথা বলে কবিতার ভাষা।

জীবনের শূণ্য খাতায়
কবিতার পাতায় পাতায়,
            লেখা আছে কত হাসি গান।

ফুলের বনে বনে,
মধুকরের গুঞ্জনে,
             আকাশে ভাসে ঐক্যতান।

এ জীবন মধুময়,
যেন এক কিশলয়,
              জীবন নিশার স্বপন সম।

ছন্দে প্রকাশের ভাষা
কবিতার ভালবাসা
               চিত্তে জাগায় আশা মম।



সোনার কাঠি রুপোর কাঠি

স্বপ্নে দেখা রাজকন্যে
             বলছে আমার কানে,
ছন্দে, সুরে, কথা আর
                ভালবাসার গানে।

ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখি রাতে,
দেখা হলো রাজকন্যের সাথে।

কুচ বরণ কন্যা তার
            কালো বরণ চুল,
কানে তার ঝুমকো লতা
              খোঁপায় চাঁপা ফুল।

গলায় তার গজমোতির হার,
পায়ে নুপুর আহা! কি বাহার!

হঠাৎ আমি চমকে উঠি
             দেখি ঘুমের মাঝে।
রাক্ষস খোক্কস এগিয়ে এসে
             বসল আমার কাছে।

ভয়েতে মোর কাঁপছে দেহখানা
রাক্ষসদের সামনে যেতে মানা।

সোনার কাঠি, রুপোর কাঠি
                ছিল আমার হাতে,
ঠেকিয়ে দিতেই রাক্ষস দুটো
               আমায় এলো খেতে।

আমি বলি শোনরে রাক্ষস খোক্কস
সামনে আয় দেখি তোদের সাহস,

সোনার কাঠি, রুপোর কাঠি
               আবার ছুইয়ে দিতে,
রাক্ষস দুটো রক্ত মুখে
              লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।

আমি তখন রাজকন্যে নিয়ে,
অতি সত্বর এলাম পালিয়ে।

পেরিয়ে এলাম তেপান্তরের মাঠ
               সাত সমুদ্র তেরো নদীর পার,
সোনার কাঠি ও রুপোর কাঠি
                আজও সাথে রয়েছে আমার।




Wednesday, 26 November 2014


জীবন-মরণ

জীবন মানে চলমান সময়ের
ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা,
জীবন মানে কণ্টকাকীর্ণ পথে
পায়ে পায়ে পথ চলা
জীবন মানে হৃদয় কাননে
পবিত্র হৃদয় কমল ফোটা
জীবন মানে কান্না, ঘাম, রক্ত
নয়নের অশ্রুজল দুফোটা
মরণ মানে চলমান
জীবনের অবরুদ্ধ পথ
মরণ মানে হঠাৎ কখন
থমকে যাওয়া রথ
মরণ মানে অসতর্ক মূহুর্ত,
জীবনের শেষ অধ্যায়;
মরণ লেখা আছে সবার
জীবন খাতার পাতায়



Monday, 20 October 2014

দেবী আগমনী

দেবী আসিছে তাই বাতাসে শিহরণ
দেবী আসিছে তাই শীতল সমীরণ।
দেবী আসিছে তাই দিগন্তে পূর্বাভাস
দেবী আসিছে তাই মেঘমুক্ত আকাশ।

আসিছে কালরাত্রি নামিছে অন্ধকার
চতুর্দিকে জ্বলিছে দীপমালার সার।
জয়গানে মুখরিত আকাশ বাতাস
বাধার কারা প্রাচীর করে হাহুতাশ।

জোছনা মরে গেছে আকাশে চাঁদ ওঠে
প্রিয় হারিয়ে গেছে গোলাপ ফুল ফোটে।
দেবীর জয়গানে বাজিছে জয়ঢাক,
বাজে কাঁসর ঘণ্টা, বন্ধন খুলে যাক।

এসো মাগো এসো দেবী এ বিশ্বভুবনে,
প্রণতি জানাই মাগো তোমার চরণে।
     মহাতীর্থ তারাপীঠ

মহাতীর্থ পূণ্যতীর্থ দেবী পীঠস্থান
বীরভূম জেলাস্থিত তারাপীঠ নাম।
উর্দ্ধোগামী পূন্যোতোয়া বহিছে দ্বারকা
সম্মুখে শ্মশান ঘাট নির্জন এলাকা।

সাধক তান্ত্রিক যত কাপালিকগণ
সিদ্ধাসনে বসি জপ করে অগণন।
চিত্ত হয় ভয়শূণ্য আসিয়া শ্মশানে
জয়তারা বলে যদি ডাক ভক্তি মনে।

চতুর্দিক মুখরিত দেবী  জয়গানে।
মায়ের মন্দিরে ভিড় দেবী দরশনে।
ধূপদীপ, ফলমূল, প্রসাদের থালা,
করয়ে প্রদান সবে রক্তজবা মালা।

বামদেব হেথা আসি করিয়া সাধনা।
বামাক্ষ্যাপা নামে খ্যাত করি আরাধনা।








Friday, 10 October 2014


আশায় বাঁধি খেলাঘর

এই পৃথিবীটা এক মহা-শ্মশান
জীবননদীর ঘুর্ণিপাকে হেথা আসে ঝড় তুফান
মিথ্যা আশায় বাঁধি খেলাঘর,
হেথা বারে বারে দেয় হানা সর্বনাশা ঝড়
সাজানো বাগান হেথা যায় শুকিয়ে,
ভালবাসার ফুলগুলো একটি একটি করে ঝরে গিয়ে,
অঝোর ধারায় কাঁদছে, অন্ধকারে মুখ লুকিয়ে
বঞ্চনার কুঁড়িগুলো ক্ষোভে, দুঃখে
আর অভিমানে একটি একটি করে
আধ ফোটা অবস্থায় অবশেষে যায় ঝরে
বাগানে গোলাপের ডালগুলো ভেঙে গিয়ে
চির অভিমান নিয়ে মাথা নোয়ায়
বেদনার বালুচরে বাঁধা সময়ের নৌকা
আনমনে বয়ে চলে একা একা
নিয়তির মিথ্যা আশায় বাঁধা খেলাঘরে
আজও ভালবাসার লুকোচুরি খেলা চলে



Thursday, 9 October 2014

সুরের আকাশে হারানো সুর

নিঝ্ঝুম রাতে
আকাশের চাঁদ
            জোছনা দেয় ছড়িয়ে

লক্ষ তারা হাসে
আকাশের গায়ে
              হৃদয় রাখে ভরিয়ে

সময়ের নদী
হয়ে বেগবতী
             কুলু কুলু বয়ে চলে,

থেমে গেছে হেথা
ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা,
                সময় কথা বলে

সুরের আকাশে হেথায়
হৃদয়ের ছিন্ন বীনায়,
                  হারানো সুর মনে পড়ে

হৃদয় বীনার তারে জোড়া
শিশিরে ভেজা কাগজে মোড়া
                   ভালবাসার পাখনা মেলে ওড়ে

Wednesday, 8 October 2014


কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা

ধরাধামে শুক্লপক্ষে শারদ পূর্ণিমা
প্রচারিতে লক্ষ্মী দেবী আপন মহিমা
বিরাজ করেন দেবী প্রতি ঘরে ঘরে,
সাজায় মঙ্গল ঘট দেবী পূজা তরে
শোভিছে পুষ্পিত ঘট, বিল্বপত্র শাখা,
প্রাঙ্গন চৌদিকে শোভে আলপনা আঁকা
এয়োগণ উলু দেন জয়ঢাক বাজে,
শিশুগণ নৃত্য করে আঙিনার মাঝে
জ্বলে দীপ শঙ্খ বাজে, প্রসাদের থালা,
কলাগাছ,পানপাতা, বরণের ডালা
ধূপদীপ মাঙ্গলিক পূজা উপচার,
এসো দেবী, বসো ঘরে ডাকি বারেবার
সর্বশেষে অন্নভোগ প্রসাদ বণ্টন,
লক্ষ্মী পাঁচালির কথা শুন দিয়া মন


Tuesday, 7 October 2014

বিল্ব ষষ্ঠী দেবীর বোধন

মন্দির মাঝে সকাল সাঁঝে,
ঢ্যাং কুড়া কুড় বাদ্যি বাজে,
খুশির দিনে আনন্দময়ী মা এসেছে

শিউলি বকুলের গন্ধে
পূজার খুশির আনন্দে
বিশ্ব ভুবন আনন্দে মেতে উঠেছে

দেবী আসছেন নৌকায় চড়ে
যাবেন মা দূর্গা দোলায় করে,
পূজোয় সবার মনে খুশির ঢেউ

খুশির আনন্দ আজ ঘরে ঘেরে,
ছেলেমেয়েরা নতুন জামা পরে,
আনন্দে আর খুশিতে নাচে  কেউ

নৌকায় চড়ে দেবীর আগমন
আজ বিল্বষষ্ঠী দেবীর বোধন
মন্দিরে বাজে ঢাক কাঁসর ঘণ্টা,

আয় রে সবাই আয়,
আনন্দে নাচি আর গাই
আনন্দে ভরে উঠুক মোদের মনটা