Sunday, 30 November 2014

ঊর্মিলা

রাম সীতা গেল বনবাসে,
কৌশল্যা ভূমিতে পড়ে আঁখিজলে ভাসে।
লক্ষ্মণ ভাই গেল তাদের সাথে,
ঊর্মিলা শুধু কাঁদে - আর কাঁদে।
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।

ঊর্মিলা- আজ চৌদ্দটা বছর,
তোমার সাথে হয়নি কথা বলা।
তোমায় রেখে এসেছি একেলা।
জানি, তোমার বড় কষ্ট হয়,
জানি, তোমার জীবন বড় দুর্বিসহ।
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।

ঊর্মিলা- তোমার হৃদয় সাগরে,
আমি দেখেছি হাজার হাজার ঊর্মিমালা।
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।

তোমার কালো চোখে দেখেছি
আমি অমানিশার নিকষ কালো আঁধার।
পূর্ণিমার রাতে, আকাশে চাঁদ ওঠে।
ঘুম আসে না দু’চোখে তোমার।
ঊর্মিলা- তোমার বুকভরা ভালবাসা
আমার জীবনে এক দুঃসহ জ্বালা,
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।
ঊর্মিলা- তোমার জলভরা দুটি চোখ
আমাকে আজও কাঁদায়-শুধু কাঁদায়।
তুমি নীরবে সয়েছো কত অবিচার, অন্যায়।
তোমার হৃদয়কমল আজও চির উজ্জ্বল
কঠোর ত্যাগের অমর মহিমায়।
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।

সুখ দুঃখভরা পৃথিবীতে ঊর্মিলারা
আজও হেসে খেলে বেড়ায়।
ত্যাগের মহিমায় ওরা আজও
বেঁচে আছে কবিতার পাতায়।
জীবন মহাকাব্যের শাখা-প্রশাখায়।


কবিতার ভালবাসা

হৃদয়বীণার তারে
যে সুরের ঝংকারে,
              জাগে মনে নিত্য নব আশা।

নীরব মনের গহনে,
স্তব্ধ প্রানের স্পন্দনে
             কথা বলে কবিতার ভাষা।

জীবনের শূণ্য খাতায়
কবিতার পাতায় পাতায়,
            লেখা আছে কত হাসি গান।

ফুলের বনে বনে,
মধুকরের গুঞ্জনে,
             আকাশে ভাসে ঐক্যতান।

এ জীবন মধুময়,
যেন এক কিশলয়,
              জীবন নিশার স্বপন সম।

ছন্দে প্রকাশের ভাষা
কবিতার ভালবাসা
               চিত্তে জাগায় আশা মম।



সোনার কাঠি রুপোর কাঠি

স্বপ্নে দেখা রাজকন্যে
             বলছে আমার কানে,
ছন্দে, সুরে, কথা আর
                ভালবাসার গানে।

ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখি রাতে,
দেখা হলো রাজকন্যের সাথে।

কুচ বরণ কন্যা তার
            কালো বরণ চুল,
কানে তার ঝুমকো লতা
              খোঁপায় চাঁপা ফুল।

গলায় তার গজমোতির হার,
পায়ে নুপুর আহা! কি বাহার!

হঠাৎ আমি চমকে উঠি
             দেখি ঘুমের মাঝে।
রাক্ষস খোক্কস এগিয়ে এসে
             বসল আমার কাছে।

ভয়েতে মোর কাঁপছে দেহখানা
রাক্ষসদের সামনে যেতে মানা।

সোনার কাঠি, রুপোর কাঠি
                ছিল আমার হাতে,
ঠেকিয়ে দিতেই রাক্ষস দুটো
               আমায় এলো খেতে।

আমি বলি শোনরে রাক্ষস খোক্কস
সামনে আয় দেখি তোদের সাহস,

সোনার কাঠি, রুপোর কাঠি
               আবার ছুইয়ে দিতে,
রাক্ষস দুটো রক্ত মুখে
              লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।

আমি তখন রাজকন্যে নিয়ে,
অতি সত্বর এলাম পালিয়ে।

পেরিয়ে এলাম তেপান্তরের মাঠ
               সাত সমুদ্র তেরো নদীর পার,
সোনার কাঠি ও রুপোর কাঠি
                আজও সাথে রয়েছে আমার।




Wednesday, 26 November 2014


জীবন-মরণ

জীবন মানে চলমান সময়ের
ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা,
জীবন মানে কণ্টকাকীর্ণ পথে
পায়ে পায়ে পথ চলা
জীবন মানে হৃদয় কাননে
পবিত্র হৃদয় কমল ফোটা
জীবন মানে কান্না, ঘাম, রক্ত
নয়নের অশ্রুজল দুফোটা
মরণ মানে চলমান
জীবনের অবরুদ্ধ পথ
মরণ মানে হঠাৎ কখন
থমকে যাওয়া রথ
মরণ মানে অসতর্ক মূহুর্ত,
জীবনের শেষ অধ্যায়;
মরণ লেখা আছে সবার
জীবন খাতার পাতায়