Wednesday, 16 April 2014

অকূল গাঙের মাঝি রে
অকূল গাঙের মাঝি রে তুই
সাধ করে বালুচরে বাঁধলি কেন ঘর?
জীবন নদীর ঝড় তুফানে
আসছে রে ঝঞ্ঝা ভয়ংকর
আশে পাশে নাইরে কেহ
ধরবে কে তোর হাত?
দুঃখে দুঃখে যাবে কেটে
আঁধার ভরা রাত
অকূল গাঙের মাঝি রে….
তোর ছিঁড়ে গেছে পাল
ভেঙে গেছে হাল
কেমনে তরী চলবে?
নদী মাঝ থেকে
এসে কিনারায়
তরীখানি বুঝি ডুববে
অকূল গাঙের মাঝি রে….
অকূল গাঙের মাঝিরে তুই
মিছেই করিস আশা
জীবন নদীর ঘূর্ণিপাকে
তোর কাঁদছে ভালবাসা
মনমাঝি কাঁদে নদীর কূলে
তরীখানি দিশা ভূলে
আপনমনে চলছে সাগর পানে
একবার এগিয়ে যায়
আবার পিছনে যায়
চলছে তরীখানা জোয়ার ভাঁটার টানে
অকূল গাঙের মাঝি রে….


Tuesday, 15 April 2014

প্রিয়তমাসু
-

আমি এক হতভাগ্য মৌন কবি 
কবির অশ্রুতে আজ ভেসে যায় কাব্যের পাতা 
কবিতা লিখতে ইচ্ছা হয় না আর। 
প্রতিমূহুর্তে খসে পড়তে চায় আমার 
দুর্জয় দুর্নিবার লেখনী দুআঙুলের ফাঁকে। 
তোমাকে ভেবেছি কতদিন 
কত স্বপ্নগভীর তন্দ্রার ঘোরে। 
দুরবীন থাকলে আজও দেখতাম 
তোমার হাসিমাখা মুখখানি। 
সকরুন অশ্রুপাতের ছবি এঁকে 
আজ আর নতুন করে ঘরে বাঁধতে চাইনা। 
তুমি যেথা নেই সেথা ভালবাসার গ্লাসে 
চুমুক দিয়ে লাভ? 
তাই অখ্যাত প্রেমিক কবির জীবনে 
তোমার অকৃত্রিম ভালবাসা আজও 
অতীতকে ফিরে পাবার স্বপ্নে বিভোর। 
সুপ্রিয়া! বহুদিন দেখিনি তোমায়। 
জানি না আজও পরণে তোমার 
নীল বেনারসী শাড়ি আছে কি নেই? 
স্নানের ঘাটে সিক্ত বসনে কলস কাঁখে 
আজও পদ্মদীঘিতে দাঁড়িয়ে থাকো কিনা 
জানি নে তাও। তোমাকে ওরা জোর করে 
ছুঁড়ে দিয়েছে শহরের ঘৃন্য পরিবেশে। 
বিদ্যুতের ফ্যাকাশে আলো যেখানে 
মিট মিট করে জ্বলে।জানি তোমার বড় কষ্ট হয়, 
জানি, বিদ্যুতের ঝিলিক তোমার কাছে অসহ্য। 
সবুজ পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে 
কেটে যায় সারাটা রাত। 
রাত কেটে ভোর হয়, আমার চোখে ঘুম নেই। 
তবুও লিখছি তোমাকে আজ, 
যদি কোন দিন আবার ফিরে আসো 
গাঁয়ের মাটিতে। প্রাণ শীতল করা 
এ গাঁয়ের সবুজ ছায়ায়। তবে একবার, 
শুধু একবার দেখা দিও প্রিয়া।
প্রতিবাদের কবিতা

নিপীড়িত বিশ্বের ডাকঘর থেকে
ডাকে এল সবুজ চিঠি
রক্তাক্ষরে তাতে লেখা
ক্ষুধার্ত পরোয়ানা
শোষিত মহাদেশের উপকণ্ঠে
ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষুধার আগুন
রোপিত হয়েছে বিবর্ণ মৃত্যুর
বিষাক্ত বীজানু
আর তাই
শোষিত জনতার কংকালে কংকালে
ধূমায়িত হচ্ছে আগুন!
বিদ্রোহের বহ্নিশিখা
আগুন জ্বলছে!
দাউ দাউ করে ক্ষুধার আগুন জ্বলছে
এ আগুন জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে
ছাই করে দেবে কায়েমী স্বার্থের মসনদ
এ আগুনেই জ্বলে পুড়ে মরবে
ধনিক, বনিক, নিষ্ঠুর উত্পীড়ক,
শাসক আর শোষকদের দল
তাই আর নয়,
জাগো এবার বিদ্রোহী জনতা
বুভুক্ষার নিষ্ঠুর কবি আমি
করি সবারে আহ্বান.
এসো বন্ধু, আমিও
তোমার সাথী এসো সবাই
এক মুঠো ভাত
আর এক টুকরো রুটির
গনদাবীতে এসো আজ
বিদ্রোহ করি অথবা
সোচ্চার কণ্ঠে প্রতিবাদ করি

Wednesday, 9 April 2014

স্মৃতি নিয়ে কবিতা

গোলাপ ঝরে যায় রেখে যায় প্রীতি
মানুষ মরে যায় রেখে যায় স্মৃতি
পত্ররাজি ঝরে যায় রেখে যায় কিশলয়
সবুজ অবুঝ হলেও দুটি মন এক হয়
রাতের রজনীগন্ধা সকাল হয় মলিন
রাত কেটে ভোর হয় শুরু হয় নতুন দিন
দিনের শেষে সূয্যি ডোবে রেখে যায় অন্ধকার
সাঁঝের বেলায় তারা নিয়ে চাঁদমামার সংসার
রাতের বেলায় আকাশের চাঁদ জোছনা হয়ে ঝরে
ভালোবাসা প্রীতি হারানো স্মৃতি কত কথা মনে পড়ে
ভালোবাসা মরে যায় রেখে যায় স্মৃতি আর দেয় বুকে ব্যথা,

কবিগণ অমর হন রেখে যান তাঁদের হারানো স্মৃতির কবিতা

বিদ্রোহের কবিতা

মিথ্যার মেঘে আকাশ ঢাকা
সত্যের সূর্য আড়ালে হাসে,
স্মৃতির নদীতে সময়ের তরীখানি
ভাটার টানে আনমনে ভেসে আসে।
দুর্নীতিতে গেছে দেশটা ছেয়ে
কালোটাকার পাহাড় জমায় যারা,
অত্যাচারের চাবুক নিয়ে হাতে
শাসনের নামে শোষন করে তারা।
বিবর্ণ মৃত্যুর মৌন মিছিলে
প্রতিবাদের আহ্বান।
ক্ষুধিত জনতা বিদ্রোহী আজ
গাহে বিদ্রোহের গান।
ঘড়ির কাঁটা বন্ধ আজিকে
সময় কথা বলে।
দিকে দিকে আজ বিদ্রোহ
বিদ্রোহের আগুন জ্বলে।
পরিবর্তন চাই। সুদিন আসছে
আমরা সব্বাই
নতুন সকালের প্রতীক্ষায় আছি।
বাঁচার লড়াই
তার আর এক নাম সংগ্রাম
এই নিয়ে বেঁচে আছি।